Intro B2 Studio / বিটু স্টুডিও এর পরিচিতি বা শুরু

আর বিটু স্টুডিও এর ওয়েব পেইজ এর প্রথম পোস্ট। নিছক মজার ছলেই খোলা হয়েছিলো বিটু স্টুডিও নামের একটা প্ল্যাটফর্ম। 
সময়টা মার্চ'২০২০ ইং। সারা পৃথিবী জুড়ে নোভেল করোনা ভাইরাস এর ছোবলে পর্যদুস্ত সব মানুষ। বিশ্বের তাবৎ বড় বড় আর বাঘা বাঘা রাষ্ট্র গুলো নাকানি চুবানি খাচ্ছে। বাংলাদেশের কথা আর নাহয় নাইবা বললাম। 

কিছুদিন আগেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ভালো কথা, আমি
বায়েজিদ। একজন হেলথ কেয়ার প্রফেশনাল। বিস্তারিত পরিচয়ে না যাওয়াই ভালো মনে করছি। তো যা বলছিলাম। অসুস্থ হইয়ে যাওয়ায় অফিস থেকে আমাকে করোনা সাসপেক্টেড ভেবে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বললো। আর একা বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থেকে যে কি দুরবস্থা হয়েছিলো, তা নাহয় নাই বললাম। কিছুটা ইমপ্রুভ করার পর আমি ঢাকায় আমার পরিবারের কাছে চলে এলাম। এখানে আমার সহধর্মিনী আর একমাত্র ছেলে সায়ফান বায়েজিদ ও থাকে।

এরই মধ্যে পুরো ঢাকা বলতে গেলে গোটা দেশটাই কার্যত লকড ডাউন হয়ে গেল করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতায়। আমরা প্রত্যেকেই যার যার বাসায় বন্দী, যার কেতাবী নাম কোয়ারেন্টাইন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তিনটা নতুন শব্দের সাথে পরিচিত আর অভ্যস্ত হলো- কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশোন আর লকড ডাউন। যদিও সাধারণ মানুষই নয়, অনেক শিক্ষিত মানুষজনও এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছিলো। ওই ব্যাখ্যাতেও আর আমি যাচ্ছি না। 

ঘরে থেকে থেকে আমার প্রায় পাঁচ বছর ছুঁই ছুঁই করতে থাকা ছেলেটাও অনেকটা বিরক্ত হয়ে পড়েছিলো। বুঝতে পারছিলাম, কিন্তু ওর জন্য মজাদার কোন কিছু খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ড্রয়িং, ক্রাফটিং আর টিভি শো এই সব যেন আর টানছিলো না। হঠাৎ মাথায় এলো- করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে সহজ ভাষায় একটা পরামর্শমূলক পোস্ট ফেসবুকে কেন করছি না। তো ল্যাপটপ টা নিয়ে শুরু করলাম। কিন্তু এটাকে ইন্টারেস্টিং করতে হলে প্রেজেন্টেশন আকারে দিলে ভালো হবে। সেক্ষেত্রে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনকে ভিডিওতে কনভার্ট করা যায়। কিন্তু আমার তো ভিডিও এডিটিং আর গ্রাফিক্সের জ্ঞান নেই। কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ইউটিউব আর গুগল করতে লাগলাম। সব কিছু নিয়ে একদিন পড়ে থাকার পর পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড কে ভিডিওতে রূপ দিতে পারলাম। সাথে সাথে বোনাস হিসেবে শিখে গেলাম ভিডিও এডিটিং আর গ্রাফিক্সের আরো কিছু ছোট টোটকা। এজন্য আমি ধন্যবাদ দিতে চাই দেশী বিদেশী সেই ব্লগার আর ইউটিউবারদের কে যাদের কারণে জ্ঞানার্জন এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত বদলালাম কিছুটা। সহধর্মিনী পরামর্শ দিলো ফেসবুক পেইজ কেন খুলি না। আমিও ভাবলাম, ভিডিও বানিয়ে সেটার ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েসটা তো দেয়াই যায় মোবাইলে রেকর্ড করে। চেহারা দেখানোর মতো অতো ভালো নয়, কিন্তু ভয়েসটা খুব খারাপ হলেও সেটা তো কে দিচ্ছে মানুষ জানছেনা বা বুঝছে না।

বিটু স্টুডিও এর প্রথম লোগো

বিটু স্টুডিও এর প্রথম লোগোতো এই প্ল্যান নিয়ে ফ্রি লোগো মেকার এর মাধ্যমে এই লোগোটা বানিয়ে ফেসবুকে বিটু স্টুডিও পেইজটা ক্রিয়েট করে ফেললাম। নাম দিলাম বিটু স্টুডিও। কারণ হলো আমার ছেলে। সে বায়েজিদ জুনিয়র, আর আমি বায়েজিদ সিনিয়র। তো আমরা বায়েজিদ কোম্পানীর নামের আদ্যক্ষর বি, আর যেহেতু দুইজন বায়েজিদ তাই বিটু স্টুডিও। রাতে আবারো প্ল্যান চেঞ্জ করলাম। ভাবলাম ভয়েসওভার টা আমার ছেলেকে দিয়ে করালে সেও মজা পাবে। আবার ব্যাপারটাও ইউনিক হতে পারে। তাই রাতে তৈরী করা পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড গুলো ওভাবেই রেখে দিলাম। আর ফোনে ট্রান্সফার করে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম আর কি করা যেতে পারে।   

 
 

মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপস নিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁততে আরো একটা লোগো বানালাম, যেটা এখন আর সংগ্রহে নেই। কিন্তু প্রথম ভিডিওটার উপরের কর্ণারে আছে। মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে রাতেই একটা ছোট্ট ইন্ট্রো ভিডিও বানিয়ে ফেললাম। আর পরীক্ষা মূলক ভাবে রেকর্ড করা ছেলের ভয়েসটাই বসিয়ে দিলাম তাতে। হয়ে গেলো ভিডিও। সারা পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে, সবার অগোচরে নিভৃতেই জন্ম নিলো আমাদের বিটু স্টুডিও।  উল্লেখ্য, এই কর্মযজ্ঞের পেছনে আরেকজনের বিশাল অবদান আছে। সায়ফানের ডোনা খালামনি একটা ইমেইল আইডি খুলে দিয়েছিলেন সায়ফানের জন্য। কাজেই ওনার ক্রেডিট পাওনা। একটা ইমেইল আইডি কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো সেটা সিক্রেটই থাকুক।

তারপর আরো অনেক কথা জমে আছে। প্রথম পোস্টের পর আরো অনেক পোস্ট এসেছে, আরও সময় গড়িয়েছে। সেসব নিয়ে আসছি পরে। ভালো থাকুক মনের দিক থেকে মানুষেরা , ভালো থাকুক পৃথিবী।